kalyani university B.A-6th-semester-history-major-10-suggestions

Kalyani University Suggestion

Kalyani University B.A 6th Semester History 6.3 Major 10 Nep Suggestions 2026

Major 10

Modern Europe: From Nationalism to Socialism

Kalyani University B.A 6th Semester History 6.3 Major 10 Nep ছোট প্রশ্ন, বড়ো প্রশ্নের উত্তর সহ কমপ্লিট সাজেশন PDF টি পেতে.. তুমি 150 টাকা পেমেন্ট কর। পেমেন্টের পর এক সেকেন্ডের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সাজেশনটি পাবে। ধন্যবাদ। টাকা টি পেমেন্ট করার জন্য নিচে PAY বাটনে ক্লিক কর।

তুমি চাইলে সরাসরি PhonePe-এর মাধ্যমে 150 টাকা পেমেন্ট করে সাজেশন সংগ্রহ করতে পার। PhonePe নম্বর: 6295668424 (পেমেন্টের পর স্ক্রিনশট হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালে PDF COPY পাঠিয়ে দেব।)

My Phone Number- 6295668424

সম্পূর্ণ সাজেশন টি ইউটিউবে দেখানো হয়েছে তুমি দেখে আসতে পারো।

​"প্রিয় ছাত্র-ছাত্রীরা, তোমাদের পড়াশোনা সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনে বা কোনো প্রশ্ন থাকলে আমার সাথে সরাসরি হোয়াটসঅ্যাপে (WhatsApp) যোগাযোগ করতে পারো। নিচের লিঙ্কে ক্লিক করলেই আমার চ্যাট বক্স খুলে যাবে: ​👉 লিঙ্ক: https://wa.me/message/GXBRUWUEZ3QXK1

• এই সাজেশনের বড়ো প্রশ্ন সংখ্যা 28 টি।
ছোট প্রশ্ন প্রশ্নের উত্তর সহ কমপ্লিট সাজেশন পাবেন।
• নিরক্ষরেখে বলতে পারি এই সাজেশনেরর বাইরে কোন প্রশ্ন উত্তর আসবে না।
• ১০০% তোমরা কমন পাবে।
• এই সাজেশনের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর সিলেবাস অনুযায়ী এবং ইউনিট অনুযায়ী সাজানো রয়েছে ।
• তোমরা চাইলে খুব সহজে BUY করতে পারো।
• THANK YOU.

এখানে অল্প কিছু প্রশ্নোত্তর আপলোড করা হয়েছে যদি তোমার মনে হয় সাজেশনটি BUY করতে পারো ।

(সিলেবাস –২০২৬)

Modern Europe: From Nationalism to Socialism

Unit- 1: The Age of ‘Change and Continuity’—Transformation of the Russian Society, Remaking of Eastern Europe, The Liberal Revolutions (1830–1850)
বিপ্লবের যুগ—জাতীয় বিপ্লব (১৮৩০–৫০), উদারনৈতিক বিপ্লব, রাশিয়ান সমাজের বিবর্তন, পূর্ব ইউরোপের নব রূপায়ণ।

Unit-2: The Economic Revolutions—Consolidation of Capitalism and Formation of Big National States in Germany and Italy, Imperial Advances Before and After Bismarck, Developments in Eastern Europe, The New Balance of Power, Europe Divided
অর্থনৈতিক বিপ্লব—মূলধনের বিকাশ ও বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে জার্মানি ও ইতালির আবির্ভাব, সাম্রাজ্যবাদের বিস্তার বিসমার্কের আগে ও পরে, পূর্ব ইউরোপের বিকাশ, ইউরোপে নতুন শক্তির সাম্য, বিভক্ত ইউরোপ।

Unit-3: Politics of Democracy—Industrial Society and Its Critics, New Concept of Welfare State, Revolution in Medical Science, Socio-political Reforms, The New Woman, Arts Transformed
গণতান্ত্রিক রাজনীতি—শিল্প সমাজ ও তার সংকট, জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের নতুন ধারণা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার, নতুন নারী, কলাশিল্পের বিবর্তন।

Unit-4: The Socialist Challenge—From Utopian to Marxian Socialism, The German, French and Russian Variety of Socialist Politics
সামাজিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—ইউটোপিয়ান থেকে মার্কসীয় সমাজতন্ত্র, সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির জার্মান, ফরাসি ও রাশিয়ান ধারাবাহিকতা।

Unit- 1: The Age of ‘Change and Continuity’—Transformation of the Russian Society, Remaking of Eastern Europe, The Liberal Revolutions (1830–1850) বিপ্লবের যুগ—জাতীয় বিপ্লব (১৮৩০–৫০), উদারনৈতিক বিপ্লব, রাশিয়ান সমাজের বিবর্তন, পূর্ব ইউরোপের নব রূপায়ণ।

*****1) প্রশ্ন. ১৮৩০ এর জুলাই বিপ্লবের কারণগুলি আলোচনা করো। এই বিপ্লব কি অবধারিত ছিল? [১০] অথবা, ফ্রান্সে ১৮৩০ এর জুলাই বিপ্লব সংগঠনকে তুমি কিভাবে ব্যাখ্যা করবে? জুলাই বিপ্লব কি অনিবার্য ছিল? [১০]

▲ রাজনৈতিক উপন্যাস - সংজ্ঞা:

১৮৩০ সালের জুলাই বিপ্লব ফ্রান্সের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনা। এই বিপ্লব মূলত প্রতিক্রিয়াশীল রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং বিপ্লব-উত্তর উদারনৈতিক ও গণতান্ত্রিক আদর্শের সংঘাতের ফলস্বরূপ সংঘটিত হয়। ১৭৮৯ সালের ফরাসি বিপ্লবের মাধ্যমে যে স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের আদর্শ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, ১৮১৫ সালের পরবর্তী সময়ে বুরবোঁ রাজবংশের পুনঃপ্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেই আদর্শ দমনের চেষ্টা করা হয়। এই দ্বন্দ্বই ধীরে ধীরে তীব্র হয়ে ১৮৩০ সালের জুলাই বিপ্লবে রূপ নেয়।

ঐতিহাসিকদের মতে, এই বিপ্লব ছিল উগ্র রাজতন্ত্রী ও উদারপন্থী প্রজাতন্ত্রীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতাদর্শগত সংঘর্ষের ফল। বিশেষত ১৮১৫ থেকে ১৮৩০ সালের মধ্যে ফরাসি রাজনীতির দ্বিমুখী চরিত্র—একদিকে পুরাতনতন্ত্র, অন্যদিকে উদারতন্ত্র—এই বিপ্লবের পটভূমি তৈরি করে।

জুলাই বিপ্লবের কারণসমূহ:

১) বুরবোঁ রাজবংশের পুনঃপ্রতিষ্ঠা: ভিয়েনা সম্মেলনের ন্যায্য অধিকার নীতির ভিত্তিতে অষ্টাদশ লুই ফ্রান্সের সিংহাসনে বসেন এবং এর ফলে বুরবোঁ রাজবংশ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। বিপ্লবের সময় দেশত্যাগী যাজক ও অভিজাতরা পুনরায় দেশে ফিরে এসে তাদের পূর্বের সম্পত্তি ও সামাজিক মর্যাদা পুনরুদ্ধারের জন্য সক্রিয় হয়ে ওঠে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়, কারণ তারা মনে করেছিল বিপ্লবের মাধ্যমে অর্জিত অধিকার ও সুবিধাগুলি হুমকির মুখে পড়েছে। বিশেষত কৃষক ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি এই পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে নিজেদের স্বার্থের বিরুদ্ধে বলে মনে করে। ফলে তারা প্রজাতন্ত্রী ও উদারপন্থীদের নেতৃত্বে সংগঠিত হয়ে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বিরোধিতা শুরু করে, যা বিপ্লবের পটভূমি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২) অষ্টাদশ লুই-এর সমন্বয় নীতির ব্যর্থতা: অষ্টাদশ লুই একদিকে পুরাতন রাজতান্ত্রিক ঐতিহ্য বজায় রাখতে চেয়েছিলেন এবং অন্যদিকে ফরাসি বিপ্লবের কিছু উদারনৈতিক আদর্শ গ্রহণ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই দ্বৈত নীতি কার্যত সফল হয়নি। উগ্র রাজতন্ত্রীরা তাঁকে অতিরিক্ত উদার বলে মনে করত, আবার উদারপন্থীরা তাঁকে যথেষ্ট গণতান্ত্রিক মনে করত না। ফলে উভয় পক্ষই তাঁর শাসনে অসন্তুষ্ট হয়ে ওঠে। এই সমন্বয় নীতির ব্যর্থতা রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও তীব্র করে তোলে এবং শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেয়। এর ফলে রাজতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা ক্রমশ কমে যায় এবং বিপ্লবের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়।

৩) উদারনৈতিক শাসননীতির সীমাবদ্ধতা: ১৮১৪ সালের সাংবিধানিক সনদের মাধ্যমে অষ্টাদশ লুই কিছু উদারনৈতিক অধিকার প্রদান করেন, যেমন আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও সীমিত ভোটাধিকার। কিন্তু বাস্তবে এই সংবিধান ছিল অসম্পূর্ণ ও সীমাবদ্ধ। রাজার হাতে ব্যাপক ক্ষমতা রয়ে যায়, তিনি ইচ্ছামতো আইনসভা ভেঙে দিতে এবং মন্ত্রী নিয়োগ বা অপসারণ করতে পারতেন। ফলে জনগণ বুঝতে পারে যে এই উদারনীতি প্রকৃতপক্ষে ভণ্ডামি এবং রাজতন্ত্র এখনও স্বৈরাচারী রূপেই বিদ্যমান। এই উপলব্ধি জনগণের মধ্যে অসন্তোষ বৃদ্ধি করে এবং বিপ্লবের সম্ভাবনাকে ত্বরান্বিত করে।

৪) বিভিন্ন গোষ্ঠীর সংঘর্ষ: এই সময় ফ্রান্সে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ দেখা যায়। উগ্র রাজতন্ত্রী, উদারপন্থী, প্রজাতন্ত্রী ও বোনাপার্টপন্থীরা নিজেদের মতাদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য পরস্পরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এই গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করে এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থা সৃষ্টি করে। সংবিধান ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে মতবিরোধ আরও গভীর হয়। ফলে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিশৃঙ্খলা বৃদ্ধি পায় এবং জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয়, যা বিপ্লবের পথ প্রশস্ত করে।

৫) স্বৈরাচারী মানসিকতা: অষ্টাদশ লুই উদারনৈতিক শাসনের প্রতিশ্রুতি দিলেও তাঁর মানসিকতা ছিল স্বৈরাচারী। তিনি সংবিধানের মুখবন্ধে উল্লেখ করেন যে রাজা ইচ্ছা করলে সংবিধান বাতিল করতে পারেন। এই বক্তব্য জনগণের কাছে রাজতন্ত্রের প্রকৃত চরিত্র উন্মোচিত করে। জনগণ উপলব্ধি করে যে তাদের অধিকার স্থায়ী নয় এবং রাজা যেকোনো সময় তা কেড়ে নিতে পারেন। এই স্বৈরাচারী মানসিকতা জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

৬) শ্বেত সন্ত্রাস: ১৮১৫ সালে উগ্র রাজতন্ত্রীরা ক্ষমতায় এসে বিপ্লবীদের উপর কঠোর দমননীতি চালায়, যা “শ্বেত সন্ত্রাস” নামে পরিচিত। বিপ্লবী ও উদারপন্থীদের উপর নির্যাতন চালানো হয় এবং বহু মানুষকে হত্যা করা হয়। এই দমননীতি জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও একই সঙ্গে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ঘৃণা ও ক্ষোভ বৃদ্ধি করে। ফলে জনগণ ধীরে ধীরে রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলে, যা বিপ্লবের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করে।

৭) দশম চার্লসের প্রতিক্রিয়াশীল নীতি: অষ্টাদশ লুই-এর মৃত্যুর পর দশম চার্লস সিংহাসনে বসেন এবং তিনি ছিলেন চরম প্রতিক্রিয়াশীল ও স্বৈরাচারী শাসক। তিনি পুরাতনতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যাজক ও অভিজাতদের বিশেষ সুবিধা প্রদান করেন এবং উদারনৈতিক নীতিগুলিকে উপেক্ষা করেন। তাঁর এই নীতি জনগণের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি করে। তিনি মধ্যপন্থা পরিত্যাগ করে একচেটিয়া রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন, যা বিপ্লবের সম্ভাবনাকে আরও তীব্র করে তোলে।

৮) জুলাই অর্ডিন্যান্স ও বিপ্লবের সূচনা: ১৮৩০ সালের ২৬ জুলাই দশম চার্লস চারটি প্রতিক্রিয়াশীল অর্ডিন্যান্স জারি করেন, যার মাধ্যমে আইনসভা ভেঙে দেওয়া হয়, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয় এবং ভোটাধিকার সীমিত করা হয়। এই সিদ্ধান্ত জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে। প্যারিসে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয় এবং ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে। এই আন্দোলন দ্রুত বিপ্লবে পরিণত হয় এবং শেষ পর্যন্ত চার্লসকে সিংহাসন ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

প্রশ্ন: জুলাই বিপ্লব কি অনিবার্য ছিল? জুলাই বিপ্লব অনিবার্য ছিল কি না, এ বিষয়ে ঐতিহাসিকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। একদল ঐতিহাসিক যেমন ডেভিড টমসন ও জ্যাক ড্রজ মনে করেন যে এই বিপ্লব অনিবার্য ছিল না। তাদের মতে, যদি অষ্টাদশ লুই জীবিত থাকতেন এবং তাঁর মধ্যপন্থী নীতি বজায় থাকত, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হতো। তিনি বিপ্লবের আদর্শ ও রাজতন্ত্রের মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন, যা কিছুটা সফলও হয়েছিল। অন্যদিকে উদারপন্থী ঐতিহাসিকরা মনে করেন যে বিপ্লব অনিবার্য ছিল। তাদের মতে, বুরবোঁ রাজতন্ত্রের স্বৈরাচারী নীতি ও জনগণের উদারনৈতিক আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সমন্বয় সম্ভব ছিল না। সংবিধানের সীমাবদ্ধতা, সীমিত ভোটাধিকার এবং রাজার অতিরিক্ত ক্ষমতা জনগণের অসন্তোষ বাড়িয়ে তোলে। ফলে বিপ্লব ছিল সময়ের দাবী এবং এটি এড়ানো সম্ভব ছিল না।

উপসংহার: উপরের আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে জুলাই বিপ্লব ছিল ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের ফলস্বরূপ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। এটি বুরবোঁ রাজতন্ত্রের পতন ঘটিয়ে সাংবিধানিক রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। যদিও কিছু ঐতিহাসিক মনে করেন বিপ্লব এড়ানো সম্ভব ছিল, তবুও অধিকাংশের মতে এটি ছিল অনিবার্য। কারণ রাজতন্ত্রের স্বৈরাচারী নীতি ও জনগণের উদারনৈতিক আকাঙ্ক্ষার মধ্যে সমন্বয় সম্ভব ছিল না। এই বিপ্লব জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক চেতনার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাশাপাশি এটি ইউরোপের অন্যান্য দেশেও উদার আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জোগায়। তাই জুলাই বিপ্লব ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত।

Unit-2: The Economic Revolutions—Consolidation of Capitalism and Formation of Big National States in Germany and Italy, Imperial Advances Before and After Bismarck, Developments in Eastern Europe, The New Balance of Power, Europe Divided অর্থনৈতিক বিপ্লব—মূলধনের বিকাশ ও বৃহৎ রাষ্ট্র হিসেবে জার্মানি ও ইতালির আবির্ভাব, সাম্রাজ্যবাদের বিস্তার বিসমার্কের আগে ও পরে, পূর্ব ইউরোপের বিকাশ, ইউরোপে নতুন শক্তির সাম্য, বিভক্ত ইউরোপ।

*****2) প্রশ্ন. ইতালির ঐক্য আন্দোলনে ম্যাৎসিনির ভূমিকা আলোচনা করো। [৫] অথবা, ইতালির ম্যাৎসিনির দেশপ্রেমের উপর আলোকপাত কর। [৫]

ভূমিকা: ইতালির ঐক্য আন্দোলন বা ‘রিসর্জিমেন্তো’ উনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপীয় ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যার লক্ষ্য ছিল বিচ্ছিন্ন ইতালীয় রাজ্যগুলিকে একত্রিত করে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতিরাষ্ট্র গঠন করা। এই আন্দোলনের পেছনে বহু দেশপ্রেমিক নেতা ও সংগঠনের অবদান থাকলেও জিউসেপ্পে ম্যাৎসিনি ছিলেন অন্যতম প্রধান আদর্শিক প্রেরণাদাতা। তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, বরং একজন চিন্তাবিদ ও বিপ্লবী দার্শনিক, যিনি ইতালির জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবোধ, আত্মত্যাগ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত করেছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘ইয়ং ইতালি’ সংগঠন ইতালির যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে স্বাধীনতার আন্দোলনে যুক্ত করে এবং এই আন্দোলনের আদর্শিক ভিত্তি সুদৃঢ় করে তোলে।

১) ইয়ং ইতালি প্রতিষ্ঠা ও সংগঠন গঠন: ম্যাৎসিনি ইতালির ঐক্য আন্দোলনে নতুন দিশা আনতে ‘ইয়ং ইতালি’ নামে একটি জাতীয়তাবাদী সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। কার্বোনারি নামক গুপ্ত সংগঠনের ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না, কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন যে গোপন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নয়, বরং জনগণের সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমেই স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব। তাই তিনি একটি উন্মুক্ত, আদর্শনির্ভর সংগঠন গড়ে তোলেন, যেখানে ৪০ বছরের নিচে তরুণদের সদস্য করা হত। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি ইতালির সর্বত্র জাতীয়তাবাদী চেতনা ছড়িয়ে দেন এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন।

২) জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও দেশপ্রেম প্রচার: ম্যাৎসিনি ছিলেন এক গভীর দেশপ্রেমিক এবং তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য ছিল একটি স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ ইতালি গঠন। তিনি ইতালির স্বাধীনতাকে একপ্রকার ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করতেন এবং জনগণকে আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ করতেন। তাঁর ভাষণ, লেখা ও প্রচারের মাধ্যমে তিনি ইতালির মানুষের মধ্যে জাতীয় চেতনা জাগ্রত করেন। তিনি মনে করতেন যে জাতির ঐক্য ও স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জনগণের মানসিক প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর এই আদর্শিক প্রচার ইতালির যুবসমাজকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে এবং তাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

৩) গণভিত্তিক বিপ্লবের ধারণা: ম্যাৎসিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। তিনি ষড়যন্ত্রমূলক বা বিচ্ছিন্ন বিদ্রোহের বিরোধিতা করে গণভিত্তিক বিপ্লবের ওপর গুরুত্ব দেন। তাঁর মতে, জনগণের সম্মিলিত শক্তিই প্রকৃত পরিবর্তন আনতে সক্ষম। তাই তিনি সাধারণ মানুষকে রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার চেষ্টা করেন এবং তাদের আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হতে আহ্বান জানান। এই ধারণা ইতালির ঐক্য আন্দোলনকে একটি বৃহত্তর গণআন্দোলনে পরিণত করতে সাহায্য করে।

৪) প্রজাতান্ত্রিক আদর্শ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি: ম্যাৎসিনি রাজতন্ত্র বা স্বৈরতন্ত্রে বিশ্বাস করতেন না; তিনি একটি প্রজাতান্ত্রিক ইতালির স্বপ্ন দেখতেন। তাঁর মতে, জনগণের সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতেই একটি রাষ্ট্র গড়ে উঠা উচিত। তিনি গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও সমতার আদর্শে বিশ্বাসী ছিলেন এবং ইতালিকে একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। তাঁর এই রাজনৈতিক দর্শন ইতালির ঐক্য আন্দোলনকে একটি আদর্শিক ভিত্তি প্রদান করে এবং পরবর্তী নেতাদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করে।

৫) যুবশক্তিকে উদ্বুদ্ধকরণ ও বিপ্লবী কার্যক্রম: ম্যাৎসিনি বিশেষভাবে ইতালির যুবসমাজকে আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে যুবকরাই জাতির ভবিষ্যৎ এবং তাদের মধ্যেই পরিবর্তনের শক্তি নিহিত। ‘ইয়ং ইতালি’ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি যুবকদের সংগঠিত করেন এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল ও সংগ্রামী হতে উদ্বুদ্ধ করেন। তাঁর নেতৃত্বে বিভিন্ন বিদ্রোহ ও আন্দোলনের চেষ্টা করা হয়, যা যদিও সবসময় সফল হয়নি, তবুও ইতালির জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

৬) সীমাবদ্ধতা ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব: ম্যাৎসিনির আন্দোলন শেষ পর্যন্ত প্রত্যক্ষভাবে সফল না হলেও তাঁর অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ছিলেন একজন আদর্শবাদী নেতা, যার বাস্তব রাজনৈতিক কৌশলের অভাব ছিল। প্রজাতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তিনি রাজতন্ত্রপন্থীদের বিরোধিতার সম্মুখীন হন এবং বিদেশি সাহায্য গ্রহণে অনীহা তাঁর আন্দোলনকে দুর্বল করে তোলে। তবুও তিনি ইতালির জনগণের মধ্যে যে জাতীয় চেতনা সৃষ্টি করেছিলেন, তা পরবর্তীকালে ইতালির ঐক্য সাধনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর আদর্শই গ্যারিবাল্ডি ও ক্যাভুরের মতো নেতাদের আন্দোলনের পথ সুগম করে।

উপসংহার: উপরের আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে ম্যাৎসিনি ইতালির ঐক্য আন্দোলনের অন্যতম প্রধান আদর্শিক নেতা ছিলেন। যদিও তাঁর আন্দোলন প্রত্যক্ষভাবে সফল হয়নি, তবুও তিনি ইতালির জনগণের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা জাগিয়ে তুলেছিলেন এবং ঐক্যের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক প্রস্তুতি তৈরি করেছিলেন। তাঁর দেশপ্রেম, আদর্শবাদ ও আত্মত্যাগ ইতালির ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তাই বলা যায়, ইতালির ঐক্য আন্দোলনের ভিত্তি নির্মাণে ম্যাৎসিনির অবদান ছিল অপরিসীম এবং তিনি ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

Unit-3: Politics of Democracy—Industrial Society and Its Critics, New Concept of Welfare State, Revolution in Medical Science, Socio-political Reforms, The New Woman, Arts Transformed গণতান্ত্রিক রাজনীতি—শিল্প সমাজ ও তার সংকট, জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের নতুন ধারণা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কার, নতুন নারী, কলাশিল্পের বিবর্তন।

*****3) প্রশ্ন. ইউরোপে প্রচারিত জনকল্যাণ-রাষ্ট্রের ধারণাটির বিশ্লেষণ করো। [৫] অথবা, জনকল্যানমূলক রাষ্ট্রের ইউরোপীয় ধারণাটির সমালোচনামূলক আলোচনা কর। [১০]

ভূমিকা: উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে ইউরোপে রাষ্ট্রের কার্যাবলী সম্পর্কে যে নতুন চিন্তাধারার বিকাশ ঘটে, তার মধ্যে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রের ধারণা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ ও সমাজতন্ত্র—এই দুই মতবাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চললেও বাস্তব পরিস্থিতিতে দেখা যায় যে কোনোটিই এককভাবে সমাজের সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম নয়। ফলে চিন্তাবিদরা একটি মধ্যপন্থা গ্রহণের প্রয়োজন অনুভব করেন, যেখানে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখা যায়। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণবাদ বা welfare state-এর ধারণা গড়ে ওঠে, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার স্বীকৃত থাকলেও জনকল্যাণকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং রাষ্ট্র প্রয়োজনমতো অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করে।

১) জনকল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা ও উদ্ভব: জনকল্যাণ রাষ্ট্র এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্র নাগরিকদের ন্যূনতম জীবনযাত্রার মান নিশ্চিত করার দায়িত্ব গ্রহণ করে। শিল্পবিপ্লবের ফলে ইউরোপে যে তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি হয়েছিল, বিশেষত শ্রমিক শ্রেণির দুরবস্থা ও শোষণ, তা এই ধারণার জন্ম দেয়। রাষ্ট্র উপলব্ধি করে যে শুধুমাত্র মুক্ত বাজার অর্থনীতি সমাজের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারে না এবং নাগরিকদের মৌলিক প্রয়োজন পূরণের জন্য রাষ্ট্রের সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য। ফলে রাষ্ট্র শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা ইত্যাদি ক্ষেত্রে দায়িত্ব গ্রহণ করতে শুরু করে। এইভাবে জনকল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়।

২) ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের সমন্বয়: জনকল্যাণ রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এটি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে একটি সমন্বয় সাধন করে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ ব্যক্তি স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত সম্পত্তি ও মুক্ত প্রতিযোগিতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে, অপরদিকে সমাজতন্ত্র সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও সম্পদের পুনর্বণ্টনের ওপর জোর দেয়। জনকল্যাণ রাষ্ট্র এই দুই মতবাদের চরম অবস্থান এড়িয়ে একটি মধ্যপন্থা গ্রহণ করে, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার বজায় থাকে, কিন্তু তা সম্পূর্ণ অবাধ নয়। রাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী হস্তক্ষেপ করে যাতে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো যায় এবং সমাজের দুর্বল অংশের সুরক্ষা নিশ্চিত হয়। ফলে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক ন্যায়ের মধ্যে একটি ভারসাম্য সৃষ্টি হয়।

৩) গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নাগরিক অধিকার: জনকল্যাণ রাষ্ট্র উদারনৈতিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে। এই রাষ্ট্রে নাগরিকদের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার স্বীকৃত হয়, যেমন ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনের দৃষ্টিতে সমতা। একাধিক রাজনৈতিক দলের অস্তিত্ব, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা এবং সংবিধানিক শাসনব্যবস্থা এই রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। এখানে রাষ্ট্র জনগণের দ্বারা নির্বাচিত হয় এবং জনগণের কল্যাণের জন্য দায়বদ্ধ থাকে। জনকল্যাণ রাষ্ট্রে নাগরিকদের কেবল রাজনৈতিক অধিকারই নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকারও গুরুত্ব পায়, যা তাদের সার্বিক উন্নয়ন নিশ্চিত করে।

৪) নিয়ন্ত্রিত ও মিশ্র অর্থব্যবস্থা: জনকল্যাণ রাষ্ট্রে সম্পূর্ণ মুক্ত অর্থনীতি বা সম্পূর্ণ রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি—কোনোটিই গ্রহণ করা হয় না। বরং একটি মিশ্র অর্থব্যবস্থা গড়ে ওঠে, যেখানে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা হয়। রাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও পরিষেবার ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে, বিশেষত যেগুলি জনস্বার্থের সঙ্গে যুক্ত। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত উদ্যোগকে উৎসাহ দেওয়া হয় যাতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হয়। করব্যবস্থা, ভর্তুকি ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রকল্পের মাধ্যমে রাষ্ট্র সম্পদের পুনর্বণ্টন করে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য হ্রাস করার চেষ্টা করে। এই ব্যবস্থা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।

৫) সামাজিক ন্যায় ও কল্যাণমূলক কর্মসূচি: জনকল্যাণ রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য হল সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা এবং নাগরিকদের কল্যাণ নিশ্চিত করা। এই উদ্দেশ্যে রাষ্ট্র বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে, যেমন বেকার ভাতা, পেনশন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও আবাসন সুবিধা প্রদান। এইসব ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজের দরিদ্র ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নত করা হয়। শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা, ন্যায্য মজুরি প্রদান এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। ফলে সমাজে একটি মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।

৬) সমালোচনা ও সীমাবদ্ধতা: যদিও জনকল্যাণ রাষ্ট্র একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত, তবুও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রথমত, রাষ্ট্রের অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও স্বাধীনতাকে সীমিত করতে পারে। দ্বিতীয়ত, এই ব্যবস্থার জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হয়, যা উচ্চ করের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয় এবং এতে জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে। মার্কসীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলা হয় যে ব্যক্তিগত সম্পত্তির অধিকার বজায় রেখে প্রকৃত সমতা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় এবং জনকল্যাণ রাষ্ট্র ধনতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার একটি উপায় মাত্র। অন্যদিকে উদারপন্থী চিন্তাবিদদের মতে রাষ্ট্রের অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ অর্থনীতির স্বাভাবিক বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। তবে এই সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জনকল্যাণ রাষ্ট্র আধুনিক বিশ্বে একটি কার্যকর ও প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

উপসংহার: সুতরাং বলা যায়, ইউরোপে প্রচারিত জনকল্যাণ রাষ্ট্রের ধারণা একটি বাস্তববাদী ও সমন্বয়মূলক রাষ্ট্রচিন্তার ফল। এটি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ ও সমাজতন্ত্রের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে সমাজে ন্যায়, সমতা ও উন্নয়ন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে। যদিও এর কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবুও নাগরিকদের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই ধারণার গুরুত্ব অপরিহার্য। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় জনকল্যাণ রাষ্ট্র একটি অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে স্বীকৃত এবং মানবকল্যাণমুখী সমাজ গঠনের ক্ষেত্রে এটি বিশেষ ভূমিকা পালন করে।

Unit-4: The Socialist Challenge—From Utopian to Marxian Socialism, The German, French and Russian Variety of Socialist Politics সামাজিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—ইউটোপিয়ান থেকে মার্কসীয় সমাজতন্ত্র, সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির জার্মান, ফরাসি ও রাশিয়ান ধারাবাহিকতা।

*****4) প্রশ্ন. কার্ল মার্কসের রাজনৈতিক তত্ত্বকে 'দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ' বলা হয় কেন? [৫]

ভূমিকা: কার্ল মার্কসের রাজনৈতিক ও দার্শনিক তত্ত্ব আধুনিক যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিন্তাধারা হিসেবে স্বীকৃত। তাঁর দর্শনের মূল ভিত্তি হল ‘দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ’ (Dialectical Materialism), যা সমাজ, প্রকৃতি এবং মানবচিন্তার পরিবর্তন ও বিকাশকে ব্যাখ্যা করার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। মার্কস মনে করতেন যে বাস্তব জগতের ভিত্তি হল বস্তু বা পদার্থ, এবং এই বস্তুজগতের অভ্যন্তরে থাকা স্ববিরোধিতা বা দ্বন্দ্বই পরিবর্তনের প্রধান চালিকা শক্তি। এই তত্ত্বে তিনি দেখিয়েছেন যে সমাজের ইতিহাস মূলত বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে সংঘাতের ইতিহাস, এবং এই সংঘাতের মাধ্যমেই নতুন সমাজব্যবস্থার উদ্ভব ঘটে। নিচে দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের ধারণা ও এর বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

১) দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের ধারণা ও উৎস: দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ মার্কসীয় দর্শনের একটি মৌলিক ভিত্তি, যা বস্তুবাদ ও দ্বন্দ্বমূলক পদ্ধতির সমন্বয়ে গঠিত। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকদের চিন্তায় দ্বন্দ্বের ধারণা থাকলেও আধুনিকভাবে এই ধারণার বিকাশ ঘটে জার্মান দার্শনিক হেগেলের মাধ্যমে। তবে হেগেল ছিলেন ভাববাদী; তিনি মনে করতেন যে চিন্তা বা ধারণাই বাস্তবতার মূল। মার্কস এই ধারণাকে উল্টে দিয়ে বলেন যে বস্তুই বাস্তবতার মূল এবং চিন্তা তার প্রতিফলন মাত্র। অর্থাৎ, মার্কসের মতে বাস্তব জগতের পরিবর্তন ব্যাখ্যা করতে হলে বস্তুগত অবস্থার পরিবর্তনকে বুঝতে হবে। এইভাবে তিনি হেগেলের দ্বন্দ্বমূলক পদ্ধতিকে বস্তুবাদী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করেন এবং ‘দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ’-এর ধারণা সৃষ্টি করেন।

২) দ্বন্দ্ব ও স্ববিরোধিতার ভূমিকা: দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল প্রতিটি বস্তু ও ঘটনার মধ্যে অন্তর্নিহিত স্ববিরোধিতা বা দ্বন্দ্বের উপস্থিতি। মার্কসের মতে, কোনো বস্তু স্থির নয়; বরং তা ক্রমাগত পরিবর্তনশীল। এই পরিবর্তনের মূল কারণ হল সেই বস্তুর অভ্যন্তরে থাকা বিপরীত শক্তির সংঘাত। প্রতিটি বস্তুর মধ্যে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক, গ্রহণ ও বর্জনের দুটি দিক থাকে, যা পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এই সংঘাতের মাধ্যমেই নতুন পরিবর্তন ঘটে। লেনিন এই ধারণা বোঝাতে চুম্বকের উদাহরণ দেন—চুম্বককে যতই ভাগ করা হোক, তার দুটি বিপরীত মেরু থেকেই যায়। একইভাবে সমাজ ও প্রকৃতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই দ্বন্দ্ব বিদ্যমান এবং তা বিকাশের প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।

৩) পরিমাণগত পরিবর্তন থেকে গুণগত পরিবর্তন: দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হল পরিমাণগত পরিবর্তন থেকে গুণগত পরিবর্তনের উদ্ভব। মার্কস দেখিয়েছেন যে কোনো পরিবর্তন প্রথমে ধীরে ধীরে পরিমাণগতভাবে ঘটে, কিন্তু একসময় তা হঠাৎ গুণগত পরিবর্তনে পরিণত হয়। উদাহরণস্বরূপ, জলকে উত্তপ্ত করলে তার তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছালে তা বাষ্পে পরিণত হয়—এটি একটি গুণগত পরিবর্তন। সমাজের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা ছোট ছোট পরিবর্তন একসময় বড় বিপ্লবের জন্ম দেয়, যা সমাজব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন ঘটায়। এই ধারণা মার্কসের বিপ্লব তত্ত্বের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

৪) শ্রেণিসংঘাত ও সামাজিক পরিবর্তন: মার্কসীয় দর্শনে সমাজের বিকাশ ব্যাখ্যা করা হয়েছে শ্রেণিসংঘাতের মাধ্যমে। তিনি বলেন যে ইতিহাস মূলত বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে দ্বন্দ্বের ইতিহাস। দাসপ্রথায় দাস ও প্রভু, সামন্ততন্ত্রে জমিদার ও ভূমিদাস, এবং পুঁজিবাদে বুর্জোয়া ও শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে সংঘাত লক্ষ্য করা যায়। এই দ্বন্দ্ব একসময় তীব্র হয়ে ওঠে এবং একটি নতুন সমাজব্যবস্থার জন্ম দেয়। উদাহরণস্বরূপ, সামন্ততান্ত্রিক সমাজ ভেঙে পুঁজিবাদী সমাজের উদ্ভব ঘটে, এবং ভবিষ্যতে পুঁজিবাদী সমাজ ভেঙে সমাজতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে বলে মার্কস বিশ্বাস করতেন। এইভাবে শ্রেণিসংঘাতই সামাজিক পরিবর্তনের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে।

৫) পুরাতনের ধ্বংস ও নতুনের উদ্ভব: দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল পুরাতন ব্যবস্থার ধ্বংসের মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থার সৃষ্টি। মার্কস মনে করতেন যে পুরাতন সমাজব্যবস্থা যতক্ষণ পর্যন্ত বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ নতুন সমাজব্যবস্থা পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে না। তাই পরিবর্তনের জন্য পুরাতনকে সম্পূর্ণরূপে ভেঙে ফেলতে হবে। এই ধারণা ‘নেগেশন অব দ্য নেগেশন’ বা দ্বৈত নাকচের নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। অর্থাৎ, পুরাতন ব্যবস্থার ধ্বংসের মধ্য দিয়েই নতুন ও উন্নততর ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়া সমাজের অগ্রগতিকে নিশ্চিত করে এবং ইতিহাসকে এগিয়ে নিয়ে যায়।

৬) প্রকৃতি, সমাজ ও চিন্তায় দ্বন্দ্বের সার্বজনীনতা: দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ কেবল সমাজের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রকৃতি ও মানবচিন্তার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। প্রকৃতির বিভিন্ন পরিবর্তন—যেমন জন্ম, বৃদ্ধি ও বিনাশ—সবই দ্বন্দ্বের নিয়ম মেনে চলে। একইভাবে মানুষের চিন্তাভাবনার মধ্যেও দ্বন্দ্ব বিদ্যমান, যা নতুন ধারণার জন্ম দেয়। মার্কস ও এঙ্গেলস দেখিয়েছেন যে এই দ্বন্দ্বই বিশ্বপ্রকৃতির সাধারণ নিয়ম, যা সব ক্ষেত্রেই কার্যকর। তাই দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ একটি সর্বজনীন তত্ত্ব হিসেবে বিবেচিত, যা বাস্তব জগতের পরিবর্তন ও বিকাশকে বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করে।

উপসংহার: সুতরাং বলা যায়, কার্ল মার্কসের রাজনৈতিক তত্ত্বকে ‘দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ’ বলা হয় কারণ এটি বস্তুগত বাস্তবতার ওপর ভিত্তি করে দ্বন্দ্বের মাধ্যমে পরিবর্তন ও বিকাশকে ব্যাখ্যা করে। এই তত্ত্বে সমাজ, প্রকৃতি ও চিন্তার পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে স্ববিরোধিতা ও সংঘাতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রেণিসংঘাত, গুণগত পরিবর্তন এবং পুরাতনের ধ্বংসের মাধ্যমে নতুনের উদ্ভব—এই সব ধারণা মার্কসীয় দর্শনের মূল ভিত্তি গঠন করে। দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ তাই কেবল একটি দার্শনিক তত্ত্ব নয়; এটি সমাজ পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী ব্যাখ্যা, যা ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এখানে অল্প কিছু প্রশ্নোত্তর আপলোড করা হয়েছে যদি তোমার মনে হয় সাজেশনটি BUY করতে পারো ।

অথবা আপনি চাইলে সরাসরি PhonePe-এর মাধ্যমে 150 টাকা পেমেন্ট করে সাজেশন সংগ্রহ করতে পারেন। PhonePe নম্বর: 6295668424 (পেমেন্টের পর স্ক্রিনশট হোয়াটসঅ্যাপে পাঠালে PDF COPY পাঠিয়ে দেব।)

সম্পূর্ণ সাজেশন টি ইউটিউবে দেখানো হয়েছে তুমি দেখে আসতে পারো।